সেনাবাহিনীকে কষ্টে হারাল ক্রুসিয়ানির সাইফ স্পোর্টিং

কৌতুহল ছিল আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির হাত ধরে সাইফ স্পোর্টিংয়ের পথচলার শুরুটা কেমন হয় দেখার। শুরুতে জামাল-মেরাজরা পারেননি ছন্দময় ফুটবল খেলতে। বরং গোছালো ফুটবলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এগিয়ে যায়। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বস্তির জয়ে স্বাধীনতা কাপ শুরু করল সাইফ স্পোর্টিং।

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রোববার ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে সাইফ স্পোর্টিং।  গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে একই ব্যবধানে জিতেছে প্রতিযোগিতাটির ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভূইয়াকে পুরোপুরি রক্ষণে রেখে কৌশল সাজান ক্রুসিয়ানি। আক্রমণভাগে রাখেন দুই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমফন সানডে ও এমেকা ওগবাহকে। শুরু থেকে হাই ডিফেন্স লাইন নিয়ে খেলতে থাকা সেনাবাহিনীর রক্ষণে তেমন একটা চিড় ধরাতে পারেননি দুজনের কেউ।

চতুর্থ মিনিটে সতীর্থের লং থ্রু বল ধরে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠে রঞ্জু সিকদার। সেনাবাহিনীর এই ফরোয়ার্ডের চিপ নিচু হয়ে যাওয়ায় গোলরক্ষক মিতুল হাসান পেয়ে যান বলের নাগাল। ৩০তম মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় সাইফ স্পোর্টিং। বক্সের খানিকটা বাইরে থেকে রুয়ান্ডার মিডফিল্ডার এমেরি বাইসেঙ্গের ফ্রি কিক মাটি ঘেঁষে পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিট সাইফের রক্ষণে প্রচণ্ড চাপ দেয় সেনাবাহিনী। রঞ্জু লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেওয়ার পর ৪২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল তুলে নেয় তারা। ইব্রাহিম খলিলের শট রিয়াদুল হাসান রাফির হাতে লাগলে পেনাল্টি পেয়েছিল তারা।

স্পট কিক নিতে গিয়ে অবশ্য সেনাবাহিনীকে স্নায়ুর চাপে ভুগতে দেখা যায়। প্রথমে অধিনায়ক মোহাম্মদ শাহিন পেনাল্টি শট নিতে ডাকেন ইমতিয়াজ রায়হানকে। পরে সিদ্ধান্ত বদলে বেছে নেন মেহেদি হাসান মিঠুকে; জাতীয় দলের এই ডিফেন্ডার নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন।

মিনিট দুয়েক পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিতে পারত সেনাবাহিনী। রায়হানের কাট ব্যাকে সামিউল হক পা ছোঁয়ালেও বলে গতি না থাকায় সহজেই গ্লাভসে নেন মিতুল।

৪৭তম মিনিটে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমফনকে আটকাতে ফাউল করেন গোলরক্ষক জাফর সরদার। পেনাল্টি পায় সাইফ স্পোর্টিং। আরেক নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকার শট বলের লাইনে ঝাঁপিয়েও আটকাতে পারেননি জাফর। আট মিনিট পর ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের কাট ব্যাকে এমফনের শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে যায়।

৭০তম মিনিটে জামালের থ্রু বল ধরে বক্সের একটু উপর থেকে এমফনের নেওয়া জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ফেরান জাফর। আট মিনিট পর নাসিরুল ইসলামের ক্রস ফেরাতে গিয়ে হেডে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন সেনাবাহিনীর প্রথম গোলদাতা মিঠু। এ গোলেই যেন লেখা হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য।

বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়ে গত লিগে শেষ করেছিল সাইফ স্পোর্টিং। সেনাবাহিনীকে হারিয়ে নতুন মৌসুমের পথচলা শুরু করল দলটি।