মেসিকে হারিয়ে ফিফার বর্ষসেরা লেভানদোভস্কি

ফাইল ছবি
অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় মৌসুম জুড়ে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে লড়াইয়ে উঠে আসেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। তবে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে পোলিশ তারকার বর্ষসেরা হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা হয়তো খুব বেশি জনে দেখেননি। ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত অবশ্য হয়েছে তাই। মেসি ও মোহামেদ সালাহকে টপকে ২০২১ সালের ‘দা বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড।

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সোমবার রাতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার ‘দা বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা্ করা হয়। গতবারও পুরস্কারটি জিতেছিলেন লেভানদোভস্কি।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে গতবারের মতো অনুষ্ঠানটি ঘিরে এবারও বসেনি তারকার মেলা। তবে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনিই ঘোষণা করেন বর্ষসেরা ফুটবলারের নাম।

পুরুষ বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে গত ২২ নভেম্বর ১১ জনের তালিকা প্রকাশ করেছিল ফিফা। ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ৭ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পারফরম্যান্সের বিচারে সংস্থাটির একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল তালিকাটি তৈরি করেছিল। পরে গত ৭ জানুয়ারি ১১ জনের মধ্যে থেকে তালিকাটি তিন জনে নামিয়ে আনা হয়।

বর্ষসেরার লড়াইয়ে লেভানদোভস্কির পক্ষে বাজি ধরার লোক হয়তো খুব বেশি ছিল না। তবে, অনেকের চোখে বরং এই পোলিশ তারকাই পুরস্কারটি পাওয়ার আসল দাবিদার। গত ২৯ নভেম্বর ব্যালন ডি’অরে মেসির সেরা হওয়ায় সমালোচনাও হয়েছিল কিছু।

জাতীয় দলের হয়ে তার তেমন কোনো অর্জন না থাকলেও বছর জুড়েই ক্লাবে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গত মৌসুমে বুন্ডেসলিগা জয়ের পথে এক আসরে সর্বোচ্চ ৪১ গোলের রেকর্ড গড়েন এই স্ট্রাইকার।

বার্সেলোনার হয়ে বিদায়ী মৌসুমটা মেসির তেমন ভালো না কাটলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি বরাবরের মতোই ছিলেন উজ্জ্বল। লা লিগায় সর্বোচ্চ ৩০ গোল করে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো জেতেন পিচিচি ট্রফি। আর কোপা দেল রের ফাইনালে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি।

জাতীয় দলে মেসি ছিলেন আপন আলোয় উদ্ভাসিত ছিলেন। গত জুলাইয়ে ব্রাজিলকে তাদের মাঠেই হারিয়ে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মিশনে চার গোল করে ও পাঁচটি করিয়ে নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে।

সালাহর সেরা তিনে জায়গা পাওয়াটা শুরু থেকেই কিছুটা অবাক করার ছিল। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব, গত মৌসুমে কোথাও কোনো শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। তবে ২০২০-২১ প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় হওয়া লিভারপুলের সেরা গোলদাতা ছিলেন তিনি; ২২ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করান পাঁচটি। লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি।

সব জাতীয় দলের কোচ ও অধিনায়ক, বিশ্বের তিন শতাধিকের বেশি সাংবাদিক ও ফুটবলপ্রেমীদের ভোটে বেছে নেওয়া হয়েছে বর্ষসেরা ফুটবলারকে।

আগের ১০ বারের বর্ষসেরা ফুটবলার:

একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর

২০১১ লিওনেল মেসি

২০১২ লিওনেল মেসি

২০১৩ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৪ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৫ লিওনেল মেসি

দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার              ব্যালন ডি’অর

২০১৬ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো              ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো 

২০১৭ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো              ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৮ লুকা মদ্রিচ                            লুকা মদ্রিচ

২০১৯ লিওনেল মেসি                   লিওনেল মেসি

২০২০ রবের্ত লেভানদোভস্কি      (কোভিডের কারণে দেওয়া হয়নি)

নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার হয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা জয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস। সেরা হওয়ার লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেন ক্লাব সতীর্থ ও স্বদেশি জেনিফার এরমোসো এবং চেলসির হয়ে সুপার লিগ ও লিগ কাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড সামান্তা কারকে।