কীভাবে এমবাপেকে ধরে রাখল পিএসজি, তদন্ত চায় লা লিগা

নীতির প্রশ্নে বেশ কড়া লা লিগা কর্তৃপক্ষ। নিজেদের লিগে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে সব নিয়ম-কানুন। আশা করে, ইউরোপের অন‍্য সব লিগ ও ক্লাব তা অনুসরণ করবে। তবে তারা নিশ্চিত, পিএসজি তা করছে না। আর তাই ধরে রাখতে পেরেছে সময়ের সেরা খেলোয়াড়দের একজন কিলিয়ান এমবাপেকে। এই চুক্তিতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্পেনের শীর্ষ লিগ।

তাদের কঠোর অবস্থানের জন‍্য ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। স্প‍্যানিশ ক্লাবটির মতো আর্থিক পরিস্থিতি অতটা খারাপ না হলেও টানা ক্ষতির মধ‍্যেই আছে পিএসজি। খেলোয়াড় ও স্টাফদের বেতন বেশ চড়া। এরপরও কীভাবে তারা এমবাপেকে ধরে রাখতে পারল সেই অঙ্ক মেলাতে পারছে না লা লিগা।

তাই পিএসজির বিরুদ্ধে উয়েফা, ফ্রান্সের প্রশাসনিক ও কর কর্তৃপক্ষ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ।

চুক্তির ব‍্যাপারে কোনো ধরনের তথ‍্য এখনও দেয়নি পিএসজি। তবে গণমাধ‍্যমে আসছে অবিশ্বাস‍্য সব সংখ‍্যার কথা। তাই বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি লা লিগা। তাদের দাবি, পিএসজির এই অর্থের ঝংকার পুরো ইউরোপের ফুটবলের জন্যই হুমকি।

গত মৌসুমের শেষে পাকাপাকিভাবে পিএসজিকে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন এমবাপে। কিন্তু পিএসজি তাকে ছাড়তে ছিল নারাজ। স্পেনের সফলতম দল রিয়াল রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিতে প্রস্তুত থাকলেও মন বদলায়নি পিএসজি কর্মকর্তাদের।

এরপর সময় গড়িয়ে শুরু হয় নতুন বছর। ১ জানুয়ারি থেকেই ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে নতুন ঠিকানা বেছে নেওয়ার পথ খুলে যায় এমবাপের। তার দলবদলের সম্ভাবনা নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। আসতে থাকে নতুন নতুন খবর।

এমবাপেকে নিয়ে পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী লড়াইয়ে গত কয়েক সপ্তাহেই পট পরিবর্তন হয়েছে কয়েক দফা। সবশেষে গত শনিবার এর নাটকীয়তা পায় নতুন মাত্রা। দিনের শেষভাগ থেকে ইউরোপের গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে এমবাপের সিদ্ধান্ত ‘বদলে যাওয়ার’ খবর।

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার মাঝরাতে পিএসজির দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় এমবাপে জানান, প্যারিসেই থাকছেন তিনি।

লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে তিন বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছেন এমবাপে। গণমাধ‍্যমে বলা হচ্ছে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তির মাধ্যমে ঘরের ছেলেকে ধরে রেখেছে পিএসজি।

সংবাদমাধ্যমের খবর, রিয়ালের পক্ষ থেকে এমবাপের জন্য যে প্রস্তাব ছিল, চুক্তি নবায়নে পিএসজির প্রস্তাব তার চেয়ে অনেক বড় অঙ্কের। যদিও সম্প্রতি এমবাপের মা দাবি করেছিলেন যে, দুই ক্লাবের চুক্তির প্রস্তাব প্রায় একই।

গুঞ্জন রয়েছে, নতুন চুক্তিতে পিএসজি তো বটেই, সব ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পাবেন এমবাপে। দলটিতে ইতিমধ্যেই আছেন লিওনেল মেসি, নেইমার সহ একঝাঁক তারকা। তাদের বেতন-বোনাসও নেহায়েত কম নয়।

আগে বিভিন্ন সময়ে ‘ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’ ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে পিএসজির বিপক্ষে। এমবাপের চুক্তির পর নতুন করে বিষয়টি সামনে এনেছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ।

“এই ধরনের চুক্তি ইউরোপীয় ফুটবলের অর্থ ব‍্যবস্থার স্থায়িত্বে আঘাত করে। এটা লাখো মানুষের চাকরি এবং খেলাধুলার বিশুদ্ধতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়- তা শুধুমাত্র ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাতেই নয়, ঘরোয়া লিগগুলোতেও।”

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পিএসজির লাগামহীন খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে লা লিগা।

“এটা জঘন‍্য যে পিএসজির মতো একটা ক্লাব, গত মৌসুমে যারা ২২ কোটি ইউরোর বেশি হারিয়েছে, এর আগের মৌসুমগুলোতে যাদের ৭০ কোটি ইউরোর বেশি ক্ষতি হয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে যাদের স্পোর্ট স্টাফদের খরচ ৬৫ কোটি ইউরো, তারা এমন একটি বড় চুক্তিতে কীভাবে পৌঁছাতে পারে। যেখানে অনেক ক্লাব তাদের বেতন কাঠামো নিয়ে আপস না করায় কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়বকে দলে নিতে পারে না।” 

পিএসজি ও ক্লাবটির সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিকে একহাত নিয়েছেন লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। এই টুইটে তিনি লিখেছেন, “আল-খেলাইফি সুপার লিগের মতো বিপজ্জনক” হয়ে উঠছেন।