ফাইনালে বিশৃঙ্খলা, আয়োজকদের উপর ক্ষুব্ধ রবার্টসন

অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী হলো এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। ‘আয়োজকদের অদক্ষতায়’ মাঠে ঢুকতে ভোগান্তি পোহাতে হলো সমর্থকদের। যে কারণে ম্যাচ মাঠে গড়াল ৩৬ মিনিট দেরিতে। এমন অগোছালো আয়োজনের জন্য ক্ষোভ ঝাড়লেন লিভারপুলের লেফট-ব্যাক অ্যান্ড্রু রবার্টসন।

ফ্রান্সের প্যারিসে শনিবারের ফাইনালে লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার রেকর্ড ১৪তম শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াল মাদ্রিদ। ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন ভিনিসিউস জুনিয়র।

স্পেন ও ইংল্যান্ডের দুই জায়ান্ট ক্লাবের ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা ছিল আকাশছোঁয়া। সারা বিশ্ব অপেক্ষায় ছিল দারুণ এক ফাইনালের। আয়োজকদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে শুরুতেই সেই রোমাঞ্চে লাগে ধাক্কা। তিন দফায় ফাইনাল শুরুর সময় পিছিয়ে যায়।

টিকেট ছাড়াই অনেক সমর্থক জোর করে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উয়েফার। অনেক জাল টিকেটধারীও ছিল বলে দাবি তাদের। তবে কিছু টিকেটধারীও দাবি করেন, তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

লিভারপুল প্রান্তের কাছে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় দাঙ্গা পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে হয়েছে। উয়েফার দাবি, জাল টিকেটধারীদের জন্য এমন বিপত্তি তৈরি হয়েছে। এমনকি ফ্রান্সের কয়েকজন মন্ত্রীও এই ঘটনার জন্য লিভারপুল সমর্থকদের দায় দেখছেন।

লিভারপুল ডিফেন্ডার রবার্টসন বিবিসিকে বলেছেন, টিকেট থাকা স্বত্ত্বেও স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি তার এক বন্ধু। সমর্থকদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ারও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

“আমার এক বন্ধুকে বলা হয়েছিল, তার টিকেট জাল। আমি নিশ্চিত করছি, সেটা জাল ছিল না। আসলেই সবকিছু বিশৃঙ্খল ছিল।”

“আমার মনে হচ্ছে, সত্যি বলতে কিছু মানুষ মাঝেমধ্যে এগুলো বলাবলি করছিল এবং তাতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

পুরো ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছে লিভারপুল। তাদের সমর্থকদের স্টেডিয়ামে ঢুকতে সমস্যায় পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ক্লাবটি।

“এটি আমাদের সমর্থক এবং ওই সব পরিবারের জন্য ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ছিল, যারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। মোটেও ভালো অভিজ্ঞতা ছিল না, ফাইনালে মাঠে আসার ভালো অনুভূতি ছিল না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হওয়া উচিত উৎসবের মঞ্চ, কিন্তু এটা ছিল না।”

এবারের ফাইনালের মূল ভেন্যু ছিল রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গ। কিন্তু দেশটি ইউক্রেইনে আক্রমণ করার পর সেখান থেকে ম্যাচটি প্যারিসে সরিয়ে নেওয়া হয়।

লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেছেন, কিছু খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদেরও মাঠে ঢুকতে কষ্ট করতে হয়েছে।

“সেখানে আসলে কী ঘটেছিল তা জানতে আরও তদন্ত হবে বলে শুনেছি আমি। কিছু ব্যাপার আমি শুনেছি যা মোটেও ভালো ছিল না। স্পষ্টতই সেখানে খারাপ অবস্থা ছিল, তবে এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু জানি না।”