দরপতনের বাজারে সূচকে উন্নতি

বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমলও সপ্তাহের চতুর্থ দিন ঊর্ধ্বমুখী সূচক নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে।

বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৩৫১ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইএক্স গণনা শুরুর পর এটাই এ সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান।

দিনের লেনদেনের শুরুতে প্রথম ২২ মিনিটে ডিএসই সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরে সূচক কিছুটা নেমে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সূচকের ঘরে আগের দিনের চেয়ে বেশি পয়েন্ট নিয়েই দিন শেষ হয়।

এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ১৪ শতাংশ বা ৩২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা বেড়েছে।

ডিএসইতে এদিন ২ হাজার ৬৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের কর্মদিবসে ২ হাজার ৩৫২ কোটি ৪ লাখ টাকা ছিল।

এ বাজারে ৬২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমছে এদিন। লেনদেন হওয়া ৩৭৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে ১১২টির দর বেড়েছে, ২৩১টির কমেছে এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার পরও সূচক বাড়ার মানে হল, বড় বাজার মূলধনের স্বল্প সংখ্যক কোম্পানির ওপর ভর করে সূচক এগিয়ে চলেছে।

গত ১০ কার্য দিবসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার পুঁজিবাজারে দিনে যত শেয়ারের দাম বাড়ছে, তার চেয়ে বেশি শেয়ারের দাম কমছে। তাতে এডিআর (অ্যাডভান্স /ডিক্লাইন) রেশিও কম থাকছে।

যতগুলো শেয়ারের দাম বেড়েছে, সেই সংখ্যাকে দাম কমা শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ দিলে এডিআর রেশিও পাওয়া যায়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বুধবার পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এডিআর রেশিও ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৭৮, শূন্য দশমিক ৪৯, শূন্য দশমিক ৭০, শূন্য দশমিক ৯৫, শূন্য দশমিক ৫২, শূন্য দশমিক ৯৬, শূন্য দশমিক ৫০, শূন্য দশমিক ১৬, শূন্য দশমিক ২৮ এবং শূন্য দশমিক ৪৮।

এই এডিআর রেশিও দিয়ে পুঁজিবাজারের প্রবণতা বোঝা যায়। এডিআর রেশিও বেশি দিন ধরে এক এর কম থাকলে তাকে বাজারের মন্দার প্রবণতা হিসেবে ধরা হয়। আবার এডিআর রেশিও বেশিদিন ধরে দেড় থেকে দুই এর মধ্যে হলে বাজার চাঙ্গা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

ব্রোকারেজ হাউজ শার্প সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম ওয়াদুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাত্ত্বিকভাবে এডিআর রেশিওর দিকে তাকালে মনে হচ্ছে পুঁজিবাজার একটু মন্দা। তবে অন্য সব বিষয় চিন্তা করলে আমি মনে করি পুঁজিবাজার ভালো আছে, সামনে আরো ভাল করবে।

“এই কমাটা আমি মনে করি মূল্য সংশোধন। একবারে বেশি সূচক বেড়ে যাওয়া ভালো না। কিছুটা মূল্য সংশোধন হলে নতুন বিনিয়োগ আসে। এখনো অনেক ভাল কোম্পানির শেয়ারের দাম কম আছে।”

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক এদিন ৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬০০ দশমিক ২৬ পয়েন্ট হয়েছে। আর ডিএস৩০ সূচক ৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৮৭ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি: লাফার্জ, ওরিয়নফার্মা, বেক্সিমকো, পাওয়ার গ্রিড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জিপিএইচ ইস্পাত, সাইফ পাওয়ার, ইফাদ অটোস, লংকাবাংলা এবং শাইনপুকুর সিরামিকস।

দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি: পাওয়ার গ্রিড, এডভেন্ট ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, মবিল যমুনা, ডেসকো, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, মতিন স্পিনিং মিলস এবং তিতাস গ্যাস।

সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০ কোম্পানি: আমান ফিড, দেশ গার্মেন্টস, জুট স্পিনিং, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিল, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স এবং এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএএসপিআই এদিন ৮১ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৫১৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট হয়েছে।

বুধবার এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বা ২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা বেড়েছে। এদিন মোট ১১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ছিল।

সিএসইতে ৩২৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে এদিন। এর মধ্যে ১০২টির দর বেড়েছে, ১৯৬টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।