দিনভর ওঠানামার পর ঊর্ধ্বমুখী সূচক

ফাইল ছবি
পরপর দুই দিনের বড় পতন ও উত্থানের পর বাজার কোন দিকে মোড় নেবে এমন দ্বিধার মধ্যে দিনভর শেয়ার কেনাবেচায় ছিল ওঠানামা; দিন শেষে দাম বাড়া বা কমে যাওয়া শেয়ার সংখ্যার ব্যবধানও ছিল কম।

বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ দিন এমন পরিস্থিতিতে সূচক সামান্য বেড়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে, বজায় রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী ধারা।

এদিন দিনের শুরুতেই নিম্নমুখী হয়ে যায় সূচক। গত কয়েক দিনের টানা পতনের মধ্যে যারা কম দামে শেয়ার কিনেছিলেন তারা মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করতে থাকলে প্রথম ১০ মিনিটে ডিএসই সূচক আগের দিন থেকে ১২ পয়েন্ট কমে যায়। তবে আবার কেনার পরিমাণ বাড়লে দেড় ঘন্টার মাথায় সূচক আগের দিন থেকে ৬০ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

এরপর আবার বিক্রির চাপ শুরু হলে সূচকও কমতে থাকে। শেষ দুই ঘণ্টায় শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন থেকে ৬ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ১১ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দেশের অপর পুঁজিবাজার সিএসইতেও সূচক বেড়েছে সামান্য। প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৯ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২০ হাজার ৪৫৩ দশমিক ১০ পয়েন্টে।

ঢাকার বাজারে এদিন লেনদেনও বেড়েছে। আগের দিনের তুলনায় ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ বা ১১০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের কর্মদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

বুধবার ডিএসইতে ৪৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এর বিপরীতে ৪৮ শতাংশের দাম বেড়েছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এ বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮০টির এবং কমেছে ১৬৬টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৮১ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ১৭ দশমিক ৩২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

বোক্সিমকো লিমিটেড, আইএফআইসি, ওরিয়ন ফার্মা, ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, ফরচুন সুজ, লাফার্জহোলসিম ও সাইফ পাওয়ারটেক।

দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ১০টি

অলিম্পিক এক্সেসরিজ, জিবিবি পাওয়ার, এএফসি এগ্রো বায়োটেক, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, জাহিন স্পিনিং, নুরানী ডাইং, ইয়াকিন পলিমার, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপার।

সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানি

মীর আক্তার, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, অগ্নি সিস্টেমস, বিডি ওয়েল্ডিং, আরামিট, দেশবন্ধু পলিমার, বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও ওরিয়ন ইনফিউশন।

এদিন চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারেও সূচকের সঙ্গে লেনদেন বেড়েছে। 

সিএসইতে ২৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬২টির, কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।

এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেড়েছে।

মোট ৪২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এক দিন পরই বড় উত্থান পুঁজিবাজারে  

মার্চেন্ট ব্যাংকারদের ‘মেকারের’ ভূমিকায় চায় বিএসইসি

দরপতনে ‘ভয়’: ডিএসই সূচক ফের ৭ হাজারের নিচে  

উত্থানে শুরু বড়পতনে শেষ, সূচক ৭ হাজার পয়েন্টের কাছে