বেক্সিমকোর সুকুক বন্ডের লেনদেন শুরু

ঢাকার নিকুঞ্জ-২ এর ডিএসই টাওয়ারে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে দেশের দুই পুঁজিবাজারে ইসলামি শরিয়াভিত্তিক প্রথম বন্ড ‘বেক্সিমকো গ্রিন- সুকুক আল ইসতিসনা’র লেনদেন উদ্বোধন করেন অতিথিরা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি
দেশের পুঁজিবাজারে শরিয়াভিত্তিক প্রথম বন্ড ‘বেক্সিমকো গ্রিন- সুকুক আল ইসতিসনা’র লেনদেন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩ হাজার কোটি টাকার এ বন্ডের লেনদেন শুরু হয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শুরুতে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেসভ্যালু) এ বন্ডের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ১১০ টাকায় লেনদেন হতে দেখা যায়। দিন শেষে বন্ডটি ১০১ টাকায় লেনদেন হয়।

সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৬ লেনদেনে হাত বদল হয় ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি ইউনিট, যার দাম প্রায় ৩৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে অষ্টম অবস্থানে ছিল বেক্সিমকোর গ্রিন সুকুক বন্ড।

বেক্সিমকোর সুকুক বন্ডের শঙ্কা কাটল

বেক্সিমকোর সুকুক বন্ড পেতে আবেদনের সময় বাড়ল  

এ বন্ড ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হচ্ছে কর্পোরেট বন্ড খাতে। ‘এন’ ক্যাটাগরির বন্ডটির লেনদেনের কোড ‘BEXGSUKUK’।

লেনদেন শুরু উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২৩ জুন বেক্সিমকো লিমিটেডকে গ্রিন সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই ৩ হাজার কোটির টাকার মধ্যে ৭৫০ কোটির বন্ড শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে এবং বাকি ৭৫০ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে বিক্রি করার কথা ছিল।

গত বছরের ১৬ অগাস্ট এই বন্ডে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ২৩ অগাস্ট।

কিন্তু এই বন্ড কেনায় সাড়া মিলছিল না। এক পর্যায়ে বন্ডটি বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ হরা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড বিক্রি হয়ে যায়।

৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার বন্ড বিক্রি হয় প্রাইভেট প্লেসমেন্টে। সাধারণ মানুষ কেনে ৪২৩ কোটি টাকার বন্ড। বর্তমান শেয়ার হোল্ডাররা কেনে মাত্র ২ কোটি টাকার বন্ড। আর আন্ডার রাইটার কিনেছে ১৩৫ কোটি টাকার বন্ড।

৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড আনছে বেক্সিমকো  

বেক্সিমকো অনুমোদন পেল প্রথম গ্রিন সুকুক বন্ড ছাড়ার  

বেক্সিমকো এই বন্ড থেকে সংগ্রহ করা অর্থ কোম্পানির সাবসিডিয়ারি দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং করতোয়া সোলার লিমিটেড নির্মাণ কাজে ব্যয় করবে। পাশাপাশি বেক্সিমকোর বস্ত্র খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে এই তহবিলের টাকায়।

শরিয়াহভিত্তিক বন্ড সুকুককে বিবেচনা করা হয় বিনিয়োগ সনদ হিসেবে, যার বিপরীতে সম্পদের মালিকানা দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। বিনিয়োগের জন্য তারা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পান।

বেক্সিমকো জানিয়েছে, তাদের সুকুক বন্ডে ৯ শতাংশ ভিত্তিমূল্যের সঙ্গে মার্জিন যোগ করে ছয় মাস অন্তর বন্ডটিতে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা দেওয়া হবে।

বেক্সিমকো সুকুক আল ইসতিসরনা ‘কনভার্টেবল’; অর্থাত্ এ বন্ডে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে রূপান্তরেরও সুযোগ পাবেন।

যদি কোনো বিনিয়োগকারী সুকুককে শেয়ারে রূপান্তর না করেন, তাহলে পাঁচ বছরের মেয়াদান্তে সুকুকের অবসায়ন হবে।