প্রতিবন্ধীবান্ধব ভবনের শর্তগুলো বাংলায় জানাবে ওয়েবসাইটটি

চটপট সিড়ি ভেঙে বা লিফটে চড়ে ভবনের ওপরের তলায় চলে যেতে পারেন অনেকেই। কিন্তু যাদের শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে তাদের বেলায় ভবনে প্রয়োজন হয় বিশেষ কিছু শর্তপূরণের। এই শর্তগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় ইউনিভার্সাল এক্সেসিবিলিটি বা সার্বজনীনগম্যতা। সহজভাবে বাংলাভাষায় এ বিষয়ে এতোদিন কোনো নির্দেশিকা ছিল না এতোদিন। সে অভাবটি ঘুঁচালো নতুন একটি ওয়েবসাইট।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) এর উদ্যোগে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় সার্বজনীনগম্যতা বিষয়ক নির্দেশিকার ওয়েবসাইট www.buag.info এর উদ্বোধন হলো বুধবার।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি)-এর ‘ডাইভারসিটি ফর পিস’ কর্মসূচীর আওতায় ‘একসেসিবল ঢাকা ক্যাম্পেইন’ প্রকল্পের সহায়তায় তৈরির কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। ফেইসবুকে লাইভ ওয়েবইনার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মীর মঞ্জুরুর রহমান ওয়েবসাইটি উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও আমাদের মাতৃভাষায় কোন সার্বজনীনগম্য নির্দেশিকা নিয়ে কোন ওয়েবসাইট ছিল না। সকলের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজভাবে সার্বজনীনগম্যতার বিধানগুলো বাংলা ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।”

“এই পদক্ষেপটি একটি দীর্ঘ পথের প্রথম ধাপ।”

“কেবল প্রতিবন্ধী নন, বয়ষ্ক বা শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির চলাফেরাতেও এই শর্তগুলো তাদের জন্য সহায়ক হবে।”

এই ওয়েবসাইটি মোবাইল ফোন বান্ধব বলেও জানান তিনি। সংগঠনটি এর একটি ছাপা সংস্করণ তৈরির কথাও জানিয়েছে।

উদ্বোধনী ওয়েবিনারে বি-স্ক্যানের পক্ষে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাস স্টুডিও এর খুঁটিনাটি তুলে ধরে। ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশগম্যতার সকল বিষয় পর্যায়ক্রমে শ্রেণিবিন্যাস করা আছে। পার্কিং থেকে শুরু করে সিড়ি, লিফট, দরজা, র‌্যাম্প, কার্ব র‌্যাম্প, খাবারের স্থান, রান্নাঘর, গণপরিবহনের প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কি করে সার্বজনীনগম্য করা যায় তার নির্দেশনা খুব সহজভাবে ছবিসহ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবার্ট স্টোলম্যান অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার দিকে নিজের অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, বি-স্ক্যানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, তারা এমন কিছু চমকপ্রদ ধারণা প্রকাশ করেছেন যা সঠিক পন্থায় কাজ করার পরিব্যপ্তি তৈরি করে। তিনি এ ধরনের প্রকল্পে অন্যান্য ইউএন প্রতিষ্ঠানের সম্পূক্ত হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।

বি-স্ক্যান এর সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে মঞ্জুরুর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র নগরায়ণ ও সুশাসন-সংক্রান্ত উপকমিটির যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবীব, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার আক্তার হোসেন সরকার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আদিল রশিদ খান, ইউএনডিপির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবাট স্টোলম্যান ও প্রকল্পের ফোকাল কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা এবং মাস স্টুডিও এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।