কুলিং প্রযুক্তি পরীক্ষায় নতুন ‘মেগা ল্যাব’ বানাবে ইনটেল

ছবি: রয়টার্স
নতুন মেগা ল্যাব নির্মাণে ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শীর্ষ চিপ নির্মাতা ইনটেল। নতুন ‘ইমারশন লিকুইড কুলিং’ প্রযুক্তি পরীক্ষা করতেই প্রতিষ্ঠানটির এতো তোড়জোড়।

অরিগনের হিলসবরোতে অবস্থিত ইনটেলের জোনস ফার্ম ক্যাম্পাসে দুই লাখ বর্গফুটের দালানটির নির্মাণকাজ এ বছরেই শুরু করার কথা প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকরেডার। ২০১৩ সালের শেষ নাগাদ ল্যাবের নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছে ইনটেল।

‘ইমারশন কুলিং’ প্রযুক্তিতে সার্ভারসহ কম্পিউটারের অন্যান্য যন্ত্রাংশ ডায়ালেকট্রিক তরলে চুবিয়ে রাখা হয়। এতে ডেটা সেন্টারগুলোতে ব্যয়বহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে না।

ইমারশন কুলিং প্রযুক্তির পাশাপাশি পানি ব্যবহার করে তাপ শুষে নেওয়া এবং সেটি পুনরায় ব্যবহারের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলবে ইনটেলের নতুন ল্যাবে।

এ ছাড়াও, ল্যাবে ডেটা সেন্টারের নানা প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে ইনটেল। ইনটেল জিওন, ইনটেল অপটেন, নেটওয়অর্ক ইন্টারফেইস, সুইচ গিয়ার, ইনটেল এক্সই আর্কিটেকচার, হাবান অ্যাক্সেলেটেরসহ ভবিষ্যতের নতুন পণ্য নিয়ে নতুন ল্যাবেই পরীক্ষা চালাবে প্রতিষ্ঠানটি।

এর পাশাপাশি নতুন ল্যাবে ইনটেল ক্রেতা ও অংশীদারদের জন্য নিজেদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখবে বলেও জানিয়েছে টেকরেডার।

অন্যদিকে, ইমারশন লিকুইড কুলিং প্রযুক্তির একটি ‘ওপেন ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি (ওপেন আইপি)-ও উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইনটেল। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার বাজারে ইনটেলের নিজস্ব সমাধানগুলো প্রয়োগ করতে অংশীদারদের সহযোগিতা করবে ওপেন আইপি ও এর আনুসাঙ্গিক নকশা।

প্রযুক্তি শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেটা সেন্টারগুলোর স্থায়িত্ব। বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক শতাংশ খরচ হয় ডেটা সেন্টারগুলোর পেছনে। বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তার ০.৩ শতাংশ আসে ডেটা সেন্টারগুলো থেকে।

মহামারী চালাকালীন প্রযুক্তি শিল্পের কয়েকটি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়লেও আয় বেড়েছে ডেটা সেন্টারগুলোর। ডেটা বিশ্লষক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবালডেটা’ বলছে, এ দশকের শেষ নাগাদ ডেটা সেন্টারের আয় ৯৪ হাজার আটশ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।