ক্রিপ্টো ধসে বিপাকে ইউক্রেইন সরকার

ক্রিপ্টো মুদ্রার দর পতনে বিপাকে পড়েছে ইউক্রেইন। রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রিপ্টো মুদ্রার মাধ্যমে যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ করছিল দেশটি।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্রিপ্টো মুদ্রার মাধ্যমে অর্থ সহযোগিতা চেয়েছিল ইউক্রেইন সরকার। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে চলতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আবারও ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের সমর্থন টানার চেষ্টা করেছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ।

১৯ মার্চ ইউক্রেইন সরকারের ‘এইড ফর ইউক্রেইন’ তহবিল বলেছিল, ছয় কোটি ডলারের সমমূল্যের ক্রিপ্টো মুদ্রা অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করেছে তারা। ঠিক এক মাস পরেই ১৯ মে ইউক্রেইনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক উপমন্ত্রী অ্যালেক্স বোর্নিয়াকভ বলেন, সংগৃহিত ক্রিপ্টো মুদ্রার বাজারমূল্য পাঁচ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

গেল কয়েক সপ্তাহে ক্রিপ্টো মুদ্রাগুলোর দরপতন হয়েছে লক্ষ্যণীয় হারে। কেবল মে মাসেই বিটকয়েনের দাম কমেছে ২০ শতাংশ। এপ্রিল মাসেও বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো মুদ্রাটির দাম কমেছিল ১৭ শতাংশ। বিটকয়েনের সাম্প্রতিক দরপতনের ঘটনাগুলোতে এই ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতাই উঠে আসছে বলে এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে রয়টার্স।

‘এইড ফর ইউক্রেইন; তহবিলের জন্য অনুদানের অর্থের পুরোটাই ক্রিপ্টো মুদ্রা হিসেবে জমা করেছিল ইউক্রেইন। তবে, ক্রিপ্টো বাজারে ধস নামার আগে দেশটির সরকার ওই তহবিল থেকে সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম কিনতে মোট সাড়ে চার কোটি ডলার খরচ করতে পেরেছে বলে রয়টার্সকে এক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন বোর্নিয়াকভ।

চলমান যুদ্ধের আংশিক খরচ মেটাতে ক্রিপ্টো মুদ্রার ওপরই নির্ভর করছিল ইউক্রেইন সরকার। যুদ্ধের আগের বছরে দেশটির স্বেচ্ছাসেবী দলগুলোর কাছে অনুদান হিসেবে বিটকয়েন আসাও বেড়েছিল। এর একাংশ সরকারি বাহিনীর জন্য অস্ত্রসরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

ক্রিপ্টো মুদ্রা কিছুটা সাহায্য করলেও, কিইভ ধারণা করছে আগামী তিন মাসে যুদ্ধবিদ্ধস্ত অর্থনীতিকে পুনরাুদ্ধার করতে দেড় হাজার কোটি ডলার লাগবে ইউক্রেইনের।

দর পতন হলেও ক্রিপ্টো এখনও প্রাসঙ্গিক

কিন্তু ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিতিশীলতা থাকলেও ইউক্রেইনীয়দের কাছে অনুদান সংগ্রহের মাধ্যম হিসেকে ক্রিপ্টো মুদ্রা এখনও আকর্ষণীয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। দেশটির বৃহত্তম বিয়ার উৎপাদক ‘ওবোলোন’ বিনামূল্যে পানি বিতরণের মানবিক সাহায্য দেওয়ার জন্য এনএফটি বেচে তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করেছে।

এক্ষেত্রে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রণালয়ের পথ অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার’ এনএফটি সংগ্রহের মাধ্যমে ২৮৬ ইথার সংগ্রহ করেছে দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রণালয়, যা সাড়ে পাঁচ লাখ ডলারের সমতুল্য।

পাঁচ হাজার এনএফটির প্রতিটির ০.১ (প্রায় দুইশ ডলার) ইথারে বেচার পরিকল্পনা করেছে ওবোলোন। যুদ্ধ শেষে এনএফটিগুলোর বদলে স্মৃতিস্মারক হিসেবে বিশেষ বিয়ারের বোতল সংগ্রহ করতে পারবেন ক্রেতারা।

এ প্রসঙ্গে এক ভিডিও ইন্টারভিউতে ওবোলনের বৈদেশিক ব্যবসার পরিচালক ওলেক্সান্ডার চাব বলেছেন “এই প্রকল্পটি সরাসরি আমাদের ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টাকে সহযোগিতায় জড়িত। কারণ, ইউক্রেইনে অর্থনৈতিক বাস্তবতা খুবই কঠিন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাও কঠিন পর্যায়ে আছে।”