বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে লড়াই

আজারবাইজানের বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে কামানের গোলা ছুড়েছেন আর্মেনিয়ার একজন সৈন্য। ফাইল ছবি: রয়টার্স 
বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে নিয়ে প্রতিবেশী আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের বাহিনীগুলোর মধ্যে ফের লড়াই শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে আজারবাইজানের অন্তত একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, আজারবাইজান বিমান ও গোলন্দাজ হামলা শুরু করেছে।

আজারবাইজান বলেছে, পুরো সীমান্তজুড়ে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণের জবাব দিচ্ছে তারা, আর্মেনীয়দের গোলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই বিরোধ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

একসময় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দেশ দুটি স্বাধীন হয়। তারপর থেকে নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে গত চার দশক ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে দুই প্রতিবেশী।

আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটিকে আজারবাইজানের এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এটি আর্মেনিয়ান নৃগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে।

জুলাইয়ে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণজমায়েত মিলিত হয়ে লোকজন ওই অঞ্চলটি দখলে নিতে পূর্ণ সামরিক অভিযান চালানোর দাবি তুলে।

কী বলছে দুই পক্ষ?

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে আরাতসাক রিপাবলিকের (নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত)রাজধানী স্তেপানাকের্তসহ বেসামরিক এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে।

তারা এ পর্যন্ত দুটি হেলিকপ্টার, তিনটি ড্রোন ও তিনটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।

“আমরা সমানুপাতিকভাবে সাড়া দিবো আর পুরো পরিস্থিতির দায়দায়িত্ব আজারবাইজানের সামরিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বহন করতে হবে,” বিবৃতিতে বলেছে তারা।

এর আগে আজারবাইজান এক ঘোষণায় বলে, “আর্মেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনীগুলোর যুদ্ধজনিত ক্রিয়াকলাপ দমন করতে ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সেনারা পুরো সীমান্তজুড়ে পাল্টা-আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে।”

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র গোলাবর্ষণে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

লড়াইয়ে তাদের একটি হেলিকপ্টার খোয়া গেলেও এর ক্রুরা জীবিত আছেন বলে জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি আর্মেনিয়ার ১২টি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করারও দাবি করেছে তারা। 

এর আগে ২০১৬ সালেও দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা লড়াইয়ে গড়িয়েছিল। সে সময় লড়াই চার দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।