নাইজেরিয়ায় অস্থিরতা: লাগোসে গুলিতে ‘বহু প্রতিবাদকারী নিহত’

লাগোসের রাস্তায় প্রতিবাদকারীদের বসানো সড়ক অবরোধ। ছবি: রয়টার্স
নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর লাগোসে পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশগ্রহণরত বহু লোক গুলিতে নিহত অথবা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানিয়েছেন, সৈন্যরা গুলি করার পর তিনি প্রায় ২০টি মৃতদেহ ও অন্ততপক্ষে ৫০ জন আহতকে গুনেছেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারাও মৃত্যুর বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পেয়েছে।

নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে। লাগোস ও অন্যান্য অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে।

নাইজেরিয়া পুলিশের স্পেশাল অ্যান্টি-রবারি স্কোয়াডকে (সার্স) নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছিল। প্রতিবাদের মুখে ইতোমধ্যে পুলিশের এই ইউনিটটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাগোসের অভিজাত লেক্কি শহরতলিতে উর্দি পরা লোকজন প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। 

বিবিসির নাইজেরিয়া সংবাদাতা নায়েনি জোন্সের পাঠানো প্রতিবেদনে গুলি করার কয়েক মূহুর্ত আগে সশস্ত্র সৈন্যদের প্রতিবাদের স্থানটি ঘিরে ফেলতে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে প্রতিবাদকারীদের আহতদের পরিচর্যা করতে দেখা গেছে।

অনামা একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি নিউজকে বলেছেন, “ঠিক ৬টা ৪৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) সৈন্যরা অস্ত্র তুলে ধরে সরাসরি আমাদের দিকে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের দিকে গুলি করা শুরু করে।

“তারা গুলি করতে করতে সোজা আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার পাশেই একজনের গুলি লাগে আর সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

“নরকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় আর তারা আমাদের দিকে গুলি করতেই থাকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চলে আর সৈন্যরা মৃতদেহগুলো নিয়ে যায়।” 

সৈন্যরা চারদিকে ব্যারিকেড দেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স প্রতিবাদস্থলে পৌঁছতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের সার্স বাহিনীর বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, মারধর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে দুই সপ্তাহ আগে প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রতিবাদকারীরা বাহিনীটিকে ভেঙে দেওয়ার দাবি জানায়। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ১১ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি ইউনিটটিকে ভেঙে দেন।

কিন্তু বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীতে আরও পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দেশ যেভাবে চলছে তাতে সংস্কার আনার দাবি তোলে।

অপরাধীরা প্রতিবাদটি ছিনতাই করেছে বলে অভিযোগ করেন লাগোসে রাজ্যের গভর্নর বাবাজিদে সানভো ওলু।  

রাজ্য গভর্নরের মুখপাত্র জিবোয়েগা আকোসিলে এক টুইটে বলেছেন, “#এন্ডসার্স প্রতিবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের, যারা নিরীহ নাগরিকদের ওপর দাঙ্গাহাঙ্গামা চাপিয়ে দিচ্ছিল, থামাতে লাগোস রাজ্যে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করার পর লেক্কি টোল প্লাজায় গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।”

কর্তৃপক্ষ ‘ঘটনা তদন্তের’ নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি তিনি।