সারা এভারার্ড হত্যা: স্যোশাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে শাস্তির মুখে পাঁচ পুলিশ

লন্ডনে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়া সারা এভারার্ড কাণ্ডে দণ্ড পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ওয়েইন কুজেনসকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় বার্তা শেয়ার করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন ৫ পুলিশ কর্মকর্তা।

ইন্ডিপেনডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কন্ডাক্ট (আইওপিসি) জানিয়েছে, মেট্রোপলিটন পুলিশ, সাসেক্স, ডোরসেট ও অ্যাভোন এবং সমারসেট পুলিশ বাহিনীর এই কর্মকর্তারা অসদাচরণের জন্য বিচার প্রক্রিয়ার মুখে পড়েছেন।

বিবিসি জানায়, পুলিশের আচরণবিধির বাইরে গিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় কিছু পুলিশ কর্মকর্তার আক্রমণাত্মক এবং আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া, সারা এভারার্ডের খুনি কুজেনসের বিচারকাজ নিয়ে চ্যাটে তথ্য শেয়ার করা এমনকী কুজেনসের সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে আসার আগেই তা প্রকাশ করার অভিযোগ নিয়ে দুটো তদন্তকাজ পরিচালনা করেছে আইওপিসি।

এরপরই পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মের বিষয়টি সামনে এসেছে এবং তারা জবাবদিহিতার মুখে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা আরও ক্ষুন্ন হবে বলে জানিয়েছে আইওপিসি।

লন্ডনের রাস্তা থেকে সারা এভারার্ডকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সাবেক ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা কুজেনসকে গত মাসেই আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ইংল্যান্ডের আদালত।

গত ৩ মার্চ স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ৩৩ বছর বয়সী সারা এভারার্ড দক্ষিণ লন্ডনে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফিরছিলেন; সেসময় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ওয়েইন কুজেনস তাকে গ্রেপ্তারের নামে জোর করে একটি ভাড়া করা গাড়িতে তোলেন। সপ্তাহখানেক পরে দক্ষিণপূর্ব ইংল্যান্ডের একটি গাছপালায় পরিপূর্ণ এলাকায় সারার মৃতদেহ মেলে।

এ ঘটনা যুক্তরাজ্যকে তুমুল নাড়া দেয়; পুলিশের ওপর আস্থা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে নারীর ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে একাধিক কর্মসূচিও হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বলেছেন, তিনি পুলিশের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আইওপিসি জানিয়েছে, তিনটি পুলিশ বাহিনীর আরও ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সাবেক আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যাদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের মার্চ এবং অক্টোবরের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে বৈষম্যমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ আছে।