ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে আবার শুরু হচ্ছে আলোচনা

ইরান পরমাণু চুক্তির পতন ঠেকাতে পাঁচ মাস পর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আবার শুরু হচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেষ্টায় ইরান পারমাণবিক চুক্তি সই করেছিল৷ ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন৷

সে চুক্তিই বাঁচাতে সোমবার শুরু হচ্ছে এই আলোচনা। কর্মকর্তারা ২০১৫ সালের এই পারমাণবিক চুক্তিতে আবার যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনতে আলোচনা করবেন।

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরান চুক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে৷ সে লক্ষ্যে এপ্রিল এবং জুনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে ছয় দফা আলোচনায় বসেছে চুক্তির পক্ষে থাকা ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা পরোক্ষোভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

এরপর ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আলোচনা বন্ধ ছিল৷ সোমবার আবার তা শুরু হচ্ছে ৷ এর মধ্যে ইব্রাহিম রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন৷

পশ্চিমা কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য ইরানের নতুন আলোচক দল কিছু দাবি তুলেছে, যা পূরণ করা অবাস্তব বলেই মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা৷

ওইসব দাবির মধ্যে আছে- ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইরানের উপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব নিষেধাজ্ঞা (এমনকী যেগুলো পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় সেগুলোও) তুলে নেওয়ার দাবি।

২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর থেকে ইরান চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে এসেছে।

ইরান প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন থেকে সরে এলে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ওইসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ইচ্ছুক। তবে ইরান চায় নিষেধাজ্ঞা তোলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রই আগে পদক্ষেপ নিক।

ইরানের প্রতিনিধি দল বলেছে, এবারের আলোচনায় তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে পারমাণবিক ইস্যু নয় বরং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া৷ সেজন্য অর্থনীতি বিষয়ক কর্মকর্তাদের ৪০ জনের শক্তিশালী প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক আলি বাঘেরি কানি রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রবন্ধে ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার জন্য পশ্চিমকে মূল্য দিতে হবে বলে জানিয়েছেন৷ ‘‘অন্য যে কোনও ব্যবসার মতোই চুক্তি হচ্ছে চুক্তি, কেউ তা লঙ্ঘন করলে ফল ভোগ করতে হবে,'' লিখেন তিনি৷