জলবায়ু নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন অস্ট্রেলিয়ার নতুন নেতা

ছবি: রয়টার্স
দীর্ঘ নয় বছর পর অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতায় ফিরছে লেবার পার্টি। এরই মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলা অ্যান্থনি আলবানিজ দেশ পরিচালনার নীতি ও কৌশলে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশেষ করে জলবায়ু নীতিতে।

তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিবিসি জানায়, সোমবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন আলাবনিজ। যদিও পার্লামেন্টে তার মধ্য-বামপন্থি দল লেবার পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ায় গত তিন বছরে ভয়াবহ দাবানল এবং প্রলংকারী বন্যার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে মূল উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে জলবায়ু।

নির্বচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আরও বেশি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আলবানিজ।

শনিবার অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির পার্লামেন্টে ১৫১টি আসনের মধ্যে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৭৬টি আসন পেতে হবে।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে লেবার পার্টি ওই ৭৬টি আসন পাবে কিনা তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। দলটি এরই মধ্যে ৭২টি আসনে জিতে গেছে। চাই আরো চারটি আসন।

এদিকে, ভোট গণনার কাজ এখনো চলছে এবং আগামী বেশ কয়েকদিন ধরে তা চলবে। কারণ, নির্বাচনী কর্মকর্তারা সবে মাত্র ডাকে আসা প্রায় ৩০ লাখ ভোট গণনা শুরু করেছে।

যদি লেবার পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় এবং যদি অস্ট্রেলিয়া একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পায় তবে ছোট দল দ্য গ্রিন এর এমপি এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত এমপিরা নতুন সরকারের জলবায়ু বিষয়ক নীতি প্রণয়নে আরও বেশি প্রভাব ফেরতে পারবে।

গ্রিন দলের এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সবাই অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন নীতিতে আমূল পরিবর্তনের জন্য প্রচার চালিয়েছেন।

ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরপরই বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলবানিজ বলেন, ‘‘আমাদের হাতে এখন অস্ট্রেলিয়ায় জলবায়ু যুদ্ধ শেষ করার একটি সুযোগ আছে।”

‘‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীরাও জানেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভালো পদক্ষেপ কর্মসংস্থান এবং আমাদের অর্থনীতির জন্যও ভালো কিছু বয়ে আনবে। এবং আমি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাই।”

কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে আরও উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তবে জলবায়ু নিয়ে এত প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজে এখনও নিজের কথার প্রমাণ রাখতে পারেননি আলবানিজ। বিবিসি জানায়, এখন পর্যন্ত তিনি কয়লার ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ বা নতুন কয়লা খনি চালু করতে বাধা দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখান করে এসেছেন।