বরিশালে ৫ বছরেও মিলছে না জমির দলিল

বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে পাঁচ বছরেও জমির দলিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ না দেওয়ায় দলিল আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের করমজা এলাকার বাসিন্দা উজ্জল হাওলাদার অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর আট শতাংশ জমি কিনে রেজিস্ট্রেশন করার পাঁচ বছর পরও তার দলিল হাতে পাননি তিনি।

তাকে আরও দুই মাস পর খোঁজ নিতে বলা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

চন্দ্রমোহন এলাকার বাসিন্দা রফিকুল আলম, বিল্লু গ্রাম এলাকার জসিম খানসহ অনেকে একই অভিযোগ করেছেন।

জসিম বলেন, “সকাল ১০টায় গেলে অফিসের লোকেরা বলে ১২টায় আসেন। ১২টায় গেলে বলে পর দিন আসেন। এভাবে দিনের পর দিন ঘুরেও দলিল পাচ্ছি না। তারাই আবার পরে বলবে জরিমানা হয়েছে। জরিমানার টাকা দেন। কিন্তু তারাই তো সময়মত দলিল দিতে পারছে না।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন।

দলিল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার দপ্তরের দ্বিতীয় পেশকার শাহিন হাওলাদার বলেন, ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের দলিল দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অপেক্ষমাণ আছে। জেলায় এমন দলিলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

তবে তিনি এর কোনো কারণ বলতে পারেননি।

জনবলের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রথম পেশকার হুমায়ুন কবির।

তবে জনবলের অভাব নেই বলে দাবি করেছেন দলিল বালামভুক্ত করার দায়িত্বে থাকা নকলনবিশরা।

তবে নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, “যারা দলিল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন এটা সঠিক নয়। নকলনবিশরা প্রতিদিন একশ দলিল বালামভুক্ত করছে।”

পরে তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, “সরকারিভাবে বালাম বই বরাদ্দ ছিল না। ফলে দীর্ঘদিন দলিল বালামভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এসব সমস্যার কারণে দলিল পেতে তিন-চার বছর সময় লাগছে।”

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রেশনের দুই বছরের মধ্যে দলিল হাতে পাবেন মালিকরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলিল না নিলে গুনতে হবে জরিমানা। অন্যথায় বিনা কৈফিয়তে দলিল বিনষ্ট করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

অনেকে অভিযোগ করেছেন, ঘুষ না দেওয়ায় দলিল দেওয়া হয় না।

বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের তল্লাশকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নাছির বলেন, “প্রতিটি নকল কপির বিপরীতে সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই টাকা রেকর্ড কিপার সুলতানা রাজিয়া সরাসরি নেন।”

সুলতানা রিজিয়া ৩৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ৫০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “যারা তল্লাশকারক তাদের কোনো সরকারি নিয়োগ নেই। একজন সরকারি পিয়ন নেই। যারা কাজ করে তাদের তো কিছু টাকা-পয়সার দরকার হয়। তা না হলে তারা খাবে কী? এজন্য মাত্র ৫০ টাকা নেওয়া হয়।”

তবে তল্লাশকারকদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নাছির দাবি করেছেন, “এই টাকার কোনো ভাগ আমরা পাই না।”

এ বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা।

পরে তিনি বলেন, “জনগণের সমস্যা সমাধানে কাজ করছি আমরা। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”