গাজীপুরে মা-মেয়ে হত্যা ডিভোর্সে প্ররোচিত করার সন্দেহে: পুলিশ

ডিভোর্সে প্ররোচিত করার সন্দেহ থেকে গাজীপুরের ফেরদৌসী বেগম ও তার শিশুমেয়েকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গাজীপুর সিটি পুলিশের উপ-কমিশনার মো. জাকির হাসান জানান, শুক্রবার রাতে দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এই তথ্য জানতে পেরেছে।

গাজীপুর সিটির দেশিপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে বুধবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশ মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সালদিয়া এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন ওরফে বাবু (৩৫) ও একই এলাকার সাত্তার খানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম খানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ কর্মকর্তা জাকির হাসান বলেন, ২৬ বছরের ফেরদৌসী গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গার্ডিয়ান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বাবুর স্ত্রী লিমাকে ওই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন ফেরদৌসী। এতে বাবুর মত ছিল না। স্ত্রীর চাকরি করা নিয়ে লিমা-বাবু দম্পতির মধ্যে মাঝেমধ্যেই কলহ হত।

“লিমাকে ওই চাকরি থেকে সরিয়ে দিতে বাবু ফেরদৌসীর কাছে বিভিন্ন সময় অনুরোধ করেন। লিমা চাকরি ছাড়তে রাজি হননি। এসব কারণে মাস তিনেক আগে লিমা ডিভোর্স দেন। ডিভোর্সের পেছনে ফেরদৌসীর হাত রয়েছে বলে বাবুর সন্দেহ হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ফেরদৌসীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবু।”

গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “বুধবার সন্ধ্যায় জাহিদুল ইসলাম খান ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে কথা বলতে ফেরদৌসীকে ডাকেন। পূর্বপরিচিত জাহিদুলের সঙ্গে কথা বলতে বাসা থেকে বের হন ফেরদৌসী। এ সময় ফেরদৌসী তার চার বছরের মেয়েকে সঙ্গে নেন। তারা রিকশায় করে হাড়িনাল এলাকার বাসা থেকে দেশিপাড়া যান। রিকশা থেকে নেমে কিছুদুর হাঁটার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বাবু ও জাহিদুল গলায় ছুরি মেরে ফেরদৌসীকে হত্যা করেন। তার মেয়ে চিৎকার করলে জাহিদুল তাকেও গলা কেটে হত্যা করেন।”

পুলিশ কর্মকর্তা জাকির হাসান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই হযরত আলী গাজীপুর সদর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে এলাকার এক পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করেছে। শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুইজনকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।