ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলার বিচার হয়নি ১৯ বছরেও

ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলার বিচার ১৯ বছরেও শেষ হয়নি।

মামলার সাক্ষীরা আদালতে না আসায় বিচার কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা জজ আদালতের বিশেষ পিপি শেখ আবুল হাসেম।

২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর ঈদের পরদিন ময়মনসিংহের অলকা, ছায়াবাণী, পূরবী ও অজন্তা সিনেমা হলে একই সময়ে বোমা হামলা হয়। এতে ১৭ জন নিহত এবং অনেক আহত হয়।

এসব হামলার ঘটনায় প্রথমে চারটি মামলা হয়। পরে তা আটটিতে রূপান্তরিত হয় – বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে চারটি ও হত্যার অভিযোগে চারটি।

এই আট মামলার মধ্যে দুইটি মামলার খবর উদ্ধার করতে পেরেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধি। বাকি ছয়টির কোনো হদিস পাননি।

তবে কয়েকটি মামলা ঢাকায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা জানালেও তা স্পষ্ট করতে পারেননি।

ময়মনসিংহ বিশেষ জজ আদালতে পূরবী ও অলকা সিনেমা হলে বোমা হামলায় দায়ের হওয়া দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে পিপি আবুল হাসেম জানান।

আবুল হাসেম জানান, পূরবী সিনেমা হলে বোমা হামলার মামলার বাদী নগরীর মাদ্রাসা কোয়ার্টারের মোকসেদুজ্জামানের ছেলে দুলাল মিয়া।

“এই মামলায় চারজন এজাহারনামীয় আসামিসহ বেশ কয়েজন অজ্ঞাত পরিচয় আসামি ছিলেন। ২০০৭ সালের ৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অভিযোগপত্রে ১৬ জনকে সাক্ষী করা হয়। এর মধ্যে দুই জন আদালতে সাক্ষ্য দিলেও বাকিরা সাক্ষী না দেওয়ায় আটকে আছে বিচার।” 

তিনি আরও জানান, অলকা সিনেমা হলের মামলার বাদী হন নগরীর সি কে ঘোষ রোডের অজিত কুমার চৌধুরীর ছেলে সুশান্ত কুমার চৌধুরী।

“এই মামলায় ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামি থাকলেও সিআইডির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে তিন জনকে রাখা হয়। তারা হলেন – সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, বোমা মিজান এবং আনোয়ার হোসেন ওরফে খোকা ওরফে শহীদ ওরফে ভাইগ্না শহীদ। এখানে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হলেও শুধু বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকিরা দিচ্ছেন না।”

এই দুই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৯ জানুয়ারি বলে জানান পিপি আবুল হাসেম।

দীর্ঘদিন এই মামলাগুলোর কোনো অগ্রগতি না থাকায় তাদের কাছে সব মামলার তথ্য নেই বলে জানান পিপি আবুল হাসেম।

এর মধ্যে কয়েকটি মামলা ঢাকায় পাঠানো হলেও তার সঠিক হিসাব তিনি দিতে পারেননি।