গাজীপুরে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিক বিক্ষোভ

গাজীপুর শহরের গাছা থানাধীন কুনিয়া বড়বাড়ি এলকায় একটি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকেরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ‘লিজ এপারেলস নামের’ কারখানার শ্রমিকেরা এ বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কারখানা মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরীফ হোসেন জানান, প্রতি বছরের শেষে শ্রমিকদের শতকরা ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এ ব্যাপারে জানুয়ারির শুরু থেকে শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসলেও তাতে সাড়া মিলছিল না।

এ অবস্থার মধ্যেই গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) কারখানায় আগুন লাগে। এ সময় শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কর্মস্থল ছেড়ে ফ্যাক্টরির কম্পাউন্ডে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে কারখানার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মোশাররফ হোসন শ্রমিকদের সঙ্গে দূর্ব্যবহারের করেন এবং আবার কাজে ফিরে যেতে বলেন।

এর প্রেক্ষিতে ওইদিন শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে করে বিক্ষোভ শুরু করে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুতমিশ জানান, বুধবার লিজ এপারেলস কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করার এক পর্যায়ে কারখানায় ভাঙচুর শুরু করে।

বৃহস্পতিবারও শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ দেয়।

তিনি বলেন, “শনিবার সকালে কারখানায় প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ দেখার পরও শ্রমিকরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।

“এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। তারা আশেপাশের কয়েকটি কারখানার সামনে গিয়ে তাদের সঙ্গে অন্য শ্রমিকদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়।”

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শ্রমিকদের মৃদু লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

শনিবার লিজ এপারেলসের পরিচালক গাজী মোহাম্মদ জাবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শ্রমিকেরা বুধবার কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করে। তারা এক কর্মকর্তাকে মারধরও করে।

এছাড়া তারা কারখানার ফ্লোরে ঢুকে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, সিসি টিভি, ল্যাপটব ভাংচুর করে এবং অফিস থেকে ১৫ লাখ টাকা চুরি করে। এ কারণে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী শনিবার থেকে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর আল-আমিন বলেন, “বেশ কয়েকমাস ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা বেতন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা চাচ্ছিলাম। কিন্তু তারা দিচ্ছে না। বরং আমাদের উপর মিথ্যে অপবাদে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

“এখন পুলিশের কারণে আমরা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। কিন্তু আমরা হঠাৎ চাকরি ছেড়ে কোথায় যাব। আমাদের তো নতুন চাকরি পেতে সময় লাগবে।”

গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ওসি বলেন, কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়লে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ছাড়াও তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও ৫৭ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।